বিচিত্র

প্রিয়নবী (সা.) এর পরিবার ও বংশ

বিশ্ব মানবতার মুক্তির বার্তা নিয়ে প্রিয়নবী (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। মানবজাতিকে অজ্ঞতা, অমানবিকতা ও সর্বোপরি ‘আইয়ামে জাহিলিয়্যাতে’র নিকষ আঁধারি থেকে মুক্তি দিতেই তার আগমন। সুদীর্ঘ ৬৩ বছরের জীবনে তিনি সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য নিখুঁত কালজয়ী আদর্শ রেখে যান।

মহানবী (সা.) এর জন্মের সাল নিশ্চিত হলেও জন্ম তারিখ নিয়ে কিছুটা মতানৈক্য রয়েছে। তবে প্রসিদ্ধ অভিমত অনুযায়ী তিনি ১২ রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিবার ও বংশ তৎকালীন আরবের অভিজাত ও শ্রেষ্ঠ বংশ ছিল। পাঠকদের জন্য তার পরিবার-বংশের সংক্ষিপ্ত তালিকা দেয়া হলো।

নাম : মুহাম্মদ (সা.)। উপনাম : আবুল কাসেম। পিতা : আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব (আবদুল মুত্তালিবের দশ সন্তানের সর্বকনিষ্ঠ)। মাতা : আমেনা বিনতে ওহ্হাব। দাদা : আবদুল মুত্তালিব বিন হাশেম। দাদি : ফাতেমা বিনতে আমর। নানা : ওহ্হাব বিন আবদে মানাফ। নানি : বোররা বিনতে ওমজা।

বংশলতিকা : মুহাম্মদ (সা.) বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব বিন হাশেম বিন আবদে মানাফ বিন কুসাই বিন কিলাব বিন মোররা বিন কাআব বিন লুয়াই বিন গালেব বিন ফেহের (তাঁর উপাধি ছিল কোরাইশ।

এখান থেকে কোরাইশ বংশের প্রচলন) বিন মালেক বিন নজর বিন কানানা বিন খোজাইমা বিন মোদরাকা বিন ইলিয়াস বিন মুজার বিন নেজার বিন মাআদ বিন আদনান। (এ পর্যন্ত সব ঐতিহাসিকের ঐক্য আছে। এ বংশলতিকা হজরত ইসমাইল ও ইব্রাহিম (আ.) হয়ে হজরত আদম (আ.) পর্যন্ত পৌঁছেছে।)

জন্মস্থান : মক্কা (বর্তমান সৌদি আরবে অবস্থিত)। গোত্র : কোরাইশ। বংশ : হাশেমি। জন্ম সময় : রাত অতিবাহিত হয়ে প্রত্যুষে।

বিশ্ব মুসলমানদের হৃদয়ের তীর্থস্থান মসজিদুল হারাম থেকে সামান্য দূরেই রাসুল (সা.)-এর পিতা আবদুল্লাহর ঘর অবস্থিত। সেটি ‘শিআবে আলী’র প্রবেশমুখে অবস্থিত। বনি হাশেম গোত্র যেখানে বাস করত সেটিই ‘শিআবে আলী’ হিসেবে তখন পরিচিত ছিল। আর বাবা আবদুল্লাহর এ ঘরেই প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

মক্কায় অবস্থানকালীন সময়ে রাসুল (সা.) এ ঘরেই বসবাস করতেন বলে জানা যায়। যদিও এ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো ঐতিহাসিক তথ্য বা প্রমাণ নেই। তবুও মক্কা নগরীতে এটি রাসুল (সা.)-এর জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত। ওসমানি শাসনামলে এ বাড়িটি মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হত।

বর্তমানে রাসুল (সা.)-এর জন্মস্থানে একটি লাইব্রেরি স্থাপন করা হয়। সৌদির বিখ্যাত শায়খ আব্বাস কাত্তান ১৩৭১ হিজরিতে ব্যক্তিগত সম্পদ ব্যয়ে এটি নির্মাণ করেন।

মসজিদুল হারামের নতুন সম্প্রসারণ-কার্যক্রমে এই লাইব্রেরিটি অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়েছে। সম্প্রসারণের নতুন নকশা ও মডেল থেকে যতটুকু জানা যায়, এ স্থানে কোনো স্থাপনা তৈরি না করে খালি ও উন্মুক্ত স্থান হিসেবে রাখা হবে। সূত্র: বাংলা নিউজ২৪।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close
Close