আন্তর্জাতিক

আমরা আরেকটি বাংলাদেশ তৈরি হতে দেব না : জারদারি

পাকিস্তানে নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি হতে দেবে না পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) এমন মন্তব্য করে দলটির চেয়ারম্যান আসিফ আলী জারদারি বলেছেন, স্বাধীনতার পর প্রায় তিন দশক ধরে ভারতের নেতারা পাকিস্তানকে ভেঙে ফেলার ষড়যন্ত্র করেছিল। মুসলিমরা কংগ্রেসের প্রধান মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে সম্মান করেন, কিন্তু তিনিও ওই ষড়যন্ত্রকারীদের একজন। তবে এবার আমরা আরেকটি বাংলাদেশ তৈরি হতে দেব না।

শনিবার পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের সাঙ্ঘর জেলার তান্দো আদম শহরে সিনেটর ইমামুদ্দিন সৌকিনের আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আসিফ আলী জারদারি।

দেশটির সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘একটি যুদ্ধে জয়ী হয়েই পাকিস্তানের সৃষ্টি হয়নি। আমাদের পূর্বপুরুষরা পাকিস্তান সৃষ্টি করেছেন। রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই পাকিস্তানকে স্বাধীন করেছেন কায়েদে আজম।’

জারদারি বলেন, পিপিপির নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দেয়া হয়েছিল। কারণ শাসকরা প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন সংক্রান্ত সংবিধানের অনুচ্ছেদে সংশোধনী আনতে চেয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে তাদের লড়াই, তাদের যুদ্ধ সম্পদের জন্য…পাকিস্তানের সম্পদের জন্য, শুধুমাত্র সিন্ধু প্রদেশের সম্পদের জন্য নয়।’

সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কার্ডিভাস্কুলার ডিজিজ (এনআইসিভিডি), জিন্নাহ পোস্টগ্রাজুয়েট মেডিক্যাল সেন্টার (জেপিএমসি) ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর চাইল্ড হেল্থ (এনআইসিএস) হচ্ছে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বাতিল চেষ্টার একটি আলামত।

সরকারের পরিকল্পনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এখন তারা করাচি থেকে সিভিল এভিয়েশন অথরিটিকে ইসলামাবাদে সরিয়ে নিচ্ছে। করাচির লোকজন চাকরি এবং নিয়ন্ত্রণ হারাবে। ইসলামাবাদে নতুন অফিস চালু হবে এবং তারা সেখান থেকে কমিশন নেবে। এটাই তাদের পরিকল্পনা।’

দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফকে (পিটিআই) পরামর্শ দেন আসিফ আলী জারদারি। পিপিপির এই প্রধান পিটিআইকে তাদের পায়ের তলার মাটি খুঁজতে বলেন। একই সঙ্গে দেশটির বর্তমান সরকার নড়বড়ে হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জারদারি বলেন, ১৯৯০ সাল থেকে সিন্ধ প্রদেশে প্রচুর উন্নতি হয়েছে। প্রদেশের উন্নয়নের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহর প্রশংসা করেন তিনি। কিন্তু জারদারি বলেন, শাহ আসলে একজন ব্যাংকারের মতো, টাকা চাওয়া হলে আড়ালে চলে যান তিনি।

সূত্র : দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close
Close